উত্তরদিনাজপুর

রক্ত দেওয়া নিয়ে বিতর্ক, জরুরী পরিষেবা বন্ধ করে কর্ম বিরতি ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্মীদের

বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে বেলা প্রায় ১২ টা পর্যন্ত বন্ধ থাকলো উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লাডব্যাঙ্ক। যার কারনে সকাল থেকেই হয়রান হলেন চিকিৎসা করতে আসা রোগী সহ তার পরিবারের লোকজন। অভিযোগ ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা নাকি কর্ম বিরতি পালন করছে। সংবাদ মাধ্যম হাজির হতেই নড়ে চড়ে বসে হাসপাতাল প্রশাসন। পুনরায় কাজ চালু হয় ব্লাড ব্যাঙ্কে।

        জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত দেওয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। সেই সময় ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্মীদের মারধোর করার অভিযোগ ওঠে রায়গঞ্জ পুরসভার ২৬ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলার অভিজিৎ সাহার বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগে রায়গঞ্জ থানায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু শুক্রবার এই ঘটনার প্রতিবাদে কর্ম বিরতি পালন করতে শুরু করে ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা। যার কারনে এদিন সকাল থেকেই সমস্যায় পড়েন হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা রুগী সহ তার পরিবারের লোকজন। যদিও সংবাদ মাধ্যম আসতেই খুলে যায় ব্লাড ব্যাঙ্কের বন্ধ দরজা। তবে পুরো ঘটনায় হাসপাতাল সুপার ডাঃ গৌতম মণ্ডলের দাবী ব্লাড ব্যাঙ্ক খোলাই ছিল। কোন কর্মী কর্ম বিরতিতে যায়নি বলে দাবী করেন তিনি।

        তবে এদিনের এই ঘটনায় বিস্তার ক্ষোভ উগ্রে দেন, রোগীর পরিবারের লোকজন। তাদের অভিযোগ, সকাল থেকে তারা রক্তের প্রয়োজনে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। কিন্ত ব্লাড ব্যাঙ্ক খোলা না থাকায় তারা রোগীর চিকিৎসা করাতে পারছেন না। সেই সঙ্গে হাসপাতালের এই জরুরী পরিষেবায় কি ভাবে কর্ম বিরতি হতে পারে সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

        এদিকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ২৬ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলার অভিজিৎ সাহা মারধোর করার অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা অভিযোগ করেছেন, গতরাতে হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা এক রুগীর জন্য রক্তের প্রয়োজনে ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা তাদের কাছে ২ হাজার টাকা দাবী করে বলে অভিযোগ করেন। সেই বিষয়ে ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। ব্লাড ব্যাঙ্কে দালাল চক্র কাজ করছে ওদের বিরুদ্ধে তিনিও থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

        তবে এই সমস্ত অভিযগের জবাব দিতে গিয়ে হাসপাতালের সুপার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রক্ত নিয়ে ব্লাড ব্যাঙ্কে একটি ঝামেলা হয়েছে, এই নিয়ে ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে এই ঘটনায় ব্লাড ব্যাঙ্কে কর্ম বিরতির কোন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবী করেন তিনি।